দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনায় প্রেমের ফাঁদে (হানি ট্র্যাপ) ফেলে এক ব্যক্তিকে অপহরণ করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত এক নারীসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় অপহরণের শিকার ব্যক্তিকে উদ্ধার, তাঁর কাছ থেকে ছিনিয়ে নেওয়া টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) রাতে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। পুলিশ জানায়, ওই দিন দুপুরে পাবনা শহরের শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে দেখা করার কথা বলে কারিবুরকে ডেকে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে আটকে রেখে পরিবারের কাছে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়।
গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন পাবনা শহরের পূর্ব কায়েমকোলা এলাকার পলি খাতুন, তাঁর স্বামী জামাল হোসেন (৪৩) এবং মহাদেবপুর এলাকার উকিল সর্দার (৪৩)।
পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, ভুক্তভোগী মো. কারিবুর বুধবার সকাল ১০টার দিকে নিজের ব্যবহৃত মুঠোফোন মেরামত করতে বাড়ি থেকে পাবনা শহরের উদ্দেশে বের হন। দুপুর ১টার দিকে তিনি ছেলের মুঠোফোনে কল করে জানান, তাঁকে শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে ডেকে নিয়ে জোরপূর্বক আটকে রাখা হয়েছে। মুক্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। টাকা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বাবার অপহরণের খবর পেয়ে ছেলে মো. কামরুল মন্ডল (২৬) বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেন। তবে তাঁর কোনো সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় অভিযোগ করেন তিনি।
পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পাবনা থানাধীন শ্রীপুর বাজার এলাকা থেকে কারিবুরকে উদ্ধার করে ডিবি পুলিশের একটি দল। এ সময় অপহরণে জড়িত সন্দেহে দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীর চার হাজার টাকা এবং অপহরণে ব্যবহৃত একটি সিএনজি জব্দ করা হয়।
ডিবি পুলিশের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পরবর্তী অভিযানে ঘটনার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত পলি খাতুনকে গ্রেপ্তার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, পলি খাতুনের মাধ্যমে প্রায় ১৫ দিন ধরে মুঠোফোনে কথা বলে কারিবুরকে প্রেমের ফাঁদে ফেলা হয়। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী, বুধবার তাঁকে শাপলা প্লাস্টিক মোড়ে দেখা করার জন্য ডেকে নেওয়া হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে আগে থেকে অবস্থান করা সহযোগীরা কারিবুরকে জোরপূর্বক সিএনজিতে তুলে বিভিন্ন স্থানে ঘোরান। একপর্যায়ে শ্রীপুর বাজারের একটি বিকাশের দোকান থেকে নম্বর সংগ্রহ করে পরিবারের কাছে টাকা পাঠানোর জন্য তাঁকে চাপ দেওয়া হয়। এ সময় তাঁকে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগও রয়েছে।
পাবনা ডিবি পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দ্রুত অভিযান চালিয়ে অপহৃত ব্যক্তিকে উদ্ধার এবং ঘটনায় জড়িত তিনজনকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়েছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে পাবনা সদর থানায় দায়ের করা মামলায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
এমএস/